Monday, August 25, 2014

কবর মানুষের কাছে অনুরোধ করে

কবর মানুষের কাছে অনুরোধ করে

কবর দৈনিক পাঁচটি জিনিস মানুষের কাছে অনুরোধ কর..........

 ১ ۞ আমি একাকী ঘর,সংগী নিয়ে এসো ।
উ: সংগী হলো কোরআন ।
২ ۞ আমি অন্ধকারঘর,বাতি নিয়ে এসো ।
উ: বাতি হলো রাতের নামাজ ।
৩ ۞ আমি মাটির ঘর,বিছানা নিয়ে এসো ।
উ: বিছানা হলো নেক আমল ।
৪ ۞ আমি সাপ বিচ্ছুরঘর, বিষের ঔষধ নিয়ে এসো ।
উ: ঔষধ হলো দান সদকা ।
৫ ۞ আমি প্রশ্নের ঘর,উত্তর নিয়ে এসো ।
উ: উত্তর হলো কলেমা ওজিকির ।

নবি কারিম (সাঃ) এর পবিত্র ১১ জন স্ত্রীগণের নাম

নবি কারিম (সাঃ) এর পবিত্র ১১ জন স্ত্রীগণের নাম


১. খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাঃ)
২. সাওদা বিনতে যামআ (রাঃ)
৩. আয়েশা বিনতে আবু বকর (রাঃ)
৪. যায়নাব বিনতে খুযায়মা (উম্মুল মাসাকীন) ( রাঃ)
৫. হাফছা বিনতে ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
৬. যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)
৭. উম্মু সালামা হিন্দ বিনতে আবী উমাইয়া (রাঃ)
৮. জুআইরিয়া বিনতে হারেছ (রাঃ)
৯. ছাফিয়া বিনতে হুওয়াই বিন আখতাব (রাঃ)
১০. মায়মূনা বিনতে হারেছ (রাঃ)
১১.উম্মে হাবীবা রামলা বিনতে আবী সুফিয়ান (রাঃ)

নবী রাসুলের দেহ মোবারক, মাঠি স্পর্শ করতে পারে না

নবী রাসুলের দেহ মোবারক, মাঠি স্পর্শ করতে পারে না


হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (দ:) ইরশাদ করেছেন- তোমরা জুমুআর দিন বেশি বেশি করে আমার উপর দুরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আমার উপর দুরুদ পড়ে, তখনই তা আমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা (রাঃ) বলেন- আমি জিজ্ঞাসা করলাম- ইয়া রাসুলাল্লাহ (দ:) ইন্তেকালের পরেও কি তা পেশ করা হবে ? উত্তরে তিনি বললেন- হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য, সকল নবী রাসুলের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।"
{সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৩৭, ১৬৩৬, সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৪৬৯, আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৪৭৮০, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৫৭২, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩৪৮৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী }

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এর জীবনের অসাধারন এক কাহানী

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এর জীবনের অসাধারন এক কাহানী

একদিন হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) রাসুল (দ:) এর
নিকট এসে কাঁদছেন। রাসুল (দ:) জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হোরায়রা তুমি কেন কাঁদছ? আবু
হোরায়রা বললেন, আমার মা আমাকে মেরেছেন।
রাসুল (দ:) বললেন, কেন তুমিকি কোন
বেয়াদবী করেছ?
আবু হোরায়রা বললেন, না হুজুর কোন
বেয়াদবী করিনি। আপনার দরবার হতে বাড়ি যেতে আমার রাত হয়েছিল বিধায়
আমার মা আমাকে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করায়
আমি আপনার কথা বললাম। আর আপনার
কথা শুনে মা রাগে আমাকে মারধর করল আর বলল,
হয়ত আমার বাড়ি ছাড়বি আর না হয় মুহাম্মদ
(দ:) এর দরবার ছাড়বি।আমি বললাম, ও আমার মা। তুমি বয়স্ক মানুষ। তোমার গায়ে যত
শক্তি আছে তত শক্তি দিয়ে মারতে থাকো।
মারতে মারতে আমাকে বাড়ি থেকে করে দাও।
তবুও আমি আমার রাসুলকে ছাড়তে পারবো না।
তখন রাসূল (দ:) বলেছেন, তোমার
মা তোমাকে বের করে দিয়েছেন আর এজন্য আমার কাছে নালিশ করতে এসেছ? হযরত আবু
হোরায়রা (রাঃ) বললেন, হে রাসূল (দ:)
আমি আমার মায়ের জন্য এখানে নালিশ
করতে আসি নাই। রাসুল (সাঃ) বললেন,
তাহলে কেন এসেছ? আবু হোরায়রা বললেন,
আমি জানি আপনি আল্লাহর নবী। আপনি যদি হাত উঠিয়ে আমার মায়ের জন্য দোয়া করতেন,
যাতে আমার মাকে যেন আল্লাহ হেদায়েত
করেন।
আর তখনই সাথে সাথে রাসুল (দ:) হাত
উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন,
হে আল্লাহ! আমি আপনি আবু হোরায়রার আম্মাকে হেদায়েত দান করুন।”
রাসুল (দ:) দোয়া করলেন আর আবু
হোরায়রা বাড়ির দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। পিছন
থেকে কয়েকজন লোক আবু হোরায়রার
জামা টেনে ধরল এবং বললো, হে আবু হোরায়রা!
তুমি দৌড়াচ্ছ কেন? তখন আবু হোরায়রা বললেন, ওহে সাহাবীগণ তোমরা আমার
জামা ছেড়ে দাও। আমাকে দৌড়াতে দাও।
আমি দৌড়াইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখতে চাই
আমি আগে পৌঁছলাম নাকি আমার নবীজির
দোয়া আগে পৌঁছে গেছে। হযরত আবু
হোরায়রা দরজায় ধাক্কাতে লাগলো। ভিতর থেকে তার মা যখন দরজা খুললো তখন আবু
হোরায়রা দেখলেন তার মার সাদা চুল
বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে।তখন
মা আমাকে বললেন, হে আবু হোরায়রা!
তোমাকে মারার পর আমি বড় অনুতপ্ত
হয়েছি,অনুশোচনাকরেছি। মনে মনে ভাবলাম আমার ছেলে তো কোন খারাপ জায়গায় যায়নি।
কেন তাকে মারলাম? আমি বরং লজ্জায়
পড়েছি তোমাকে মেরে।হে আবু হোরায়রা!
আমি গোসল করেছি। আমাকে তাড়াতাড়ি রাসুল
(দ:) এর দরবারে নিয়ে চল। আর তখনই
সাথে সাথে আবু হোরায়রা তার মাকে রাসুল (দ:) এর দরবারে নিয়ে গেলেন। আর তার
মাকে সেখানেই কালিমা পাঠ করে মুসলমান
হয়ে গেলেন।
"পিতা মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা।
যদি চাও, দরজাটি নষ্ট
করে ফেলতে পারো,নতুবা তা রক্ষা করতে পারো।" [সহীহ তিরমিজি ]
 
Source: http://muhammadiyasunniya.blogspot.com/2014/03/blog-post_7430.html

কলম সম্রাট ইমাম গায্যালী (রঃ)

কলম সম্রাট ইমাম গায্যালী (রঃ)

ভূমিকা : ইমাম গায্‌যালী। এটি কোন অপরিচিত বা কোন নতুন নাম নয়। মানুষের আত্নিক উন্নয়ন সাধনের জন্য তিনি রেখে গেছেন একসাগর অবদান। মানব জাতির জ্ঞান ভান্ডারে ইমাম গায্‌যালীর গ্রন্থরাজি হীরক খন্ডের মতো বর্ণালি আলো ছড়িয়ে চলছে নিত্য দিবস, হউক সে, মুসলিম বা অন্য কিছু। তিনি মূলত ৫ম শতাব্দীতে প্রকাশিত নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মোজেযা। যখন মুসলমান হিংসা, বিদ্বেস,অহংকার, গিবত, লোভ, হারাম, কীবর, কিজব, কিনা, ফাসাদ, বখিল রোগে আক্রান্ত্ম হয়ে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে স্ববিরোধী কার্যালাপে মন দিয়ে ঝুকে পরেছিল সেই সময়, নয় পূর্বে কিংবা পরে, এসব থেকে মানুষকে তার আসল স্বভাবকে ইয়াদ করিয়ে দিয়েছেন ইমাম গায্‌যালী। তিনি মানুষকে তওবা, এনাবত, যোহদ, শুকর, তায়াক্কুল, কানাত, তাসলিম, রেজা, সবুর নামে এসব গুনে গুনান্বিত হওয়ার উদাত্ব আহ্ববায়ক। ইমাম গায্‌যালীকে তাসাউফের জীবন দাতা ও বলা হয়। এ বিশাল মনীষীর বর্নাঢ্য জীবন থেকে, সামান্য থেকে সামান্য নিম্নে অংকন করলাম এজন্য যে, যাতে সেই ঐতিহ্য ও তাসাউফ আবার স্বরণ করি।
জন্ম :-
ইমাম গায্‌যালীর জন্ম স্থান নিয়ে ঐতিহাসিক গনের মধ্যেমত বিরোধ বিদ্যমান। আল্লামা সামানী বলেন- ইরান এর খোরাসানের তুস প্রদেশের গায্‌যালানামক গ্রামে ইমাম গায্‌যালী জন্ম গ্রহণ করেন। কিছু সংখ্যক ঐতিহাসিকদের মতে তুস নগরের উপকন্ঠে গায্‌যালানামে কোন গ্রাম ছিল না ; বরং তুরুস্ক প্রদেশের তাহরাননামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিজরী ৪৫০ সন মোতাবেক ১০৫৮ খিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
নাম ও বংশ পরিচয় :-
ইমাম গায্‌যালীর নাম আবু হামেদ মুহাম্মদ। তার মূল নাম মুহাম্মদ। উপাধি হুজ্জাতুল ইসলাম ও জয়নুল আবেদীন। পিতা মুহাম্মদ। দাদা আহমদ। ইমাম সাহেবের দাদা ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় ও গণ্য মান্য ব্যক্তি। ইমাম সাহেবকে গায্‌যালী বলা হয়, যেহেতু গায্‌যালা অর্থ সুতা ব্যবসা। ইমাম সাহেবের বংশ গত পেশা ছিল সুতা পাকিয়ে বিক্রয় করা।
বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন :-
তৎকালীন সময়ে জ্ঞান আহরনের সুবর্ন সুযোগ থাকা সর্ত্ত্বেও কোন এক অপরিচিত কারনে ইমাম সাহেবের পিতা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভে বঞ্জিত হন। এ দুঃখ তাকে সর্বদা তাড়াদিত। তিনি (পিতা) দুই ছেলে মুহাম্মদ ও আহমদকে বাল্য বয়সে রেখে ইন্ত্মেকাল করেন। ইন্ত্মিকালের পূর্বে তার
ফাজিল বি.এ (অনার্স) ২য় বর্ষ (আল-কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
জনৈক বিশ্বস্ত্ম ও অন্ত্মরঙ্গ বন্ধুকে জীবনের সমুদয় সম্পদের অনেকটা ভাগ দিলেন এবং এ অর্থ দিয়ে তার বৎসদ্বয়কে শিক্ষার ব্যবস্থা করার অনুরোধ রাখলেন। সে মুহুর্তে তিনি স্বীয় বন্ধুকে সম্বোধন করে অশ্রু গদগদ কন্ঠে বললেন আমি জ্ঞানার্জনের সুযোগ লাভের পরেও বঞ্জিত হয়ে আজীবন দারুণ অনুতাপে দগ্ধ হয়েছি। অন্ত্মরঙ্গ বন্ধু আপনার নিকট আমার অনুরোধ অনুগ্রহ পূর্বক এ শিশুদ্বয়ের বিদ্যা শিক্ষার সুযোগ করবেন। তারা জ্ঞান অর্জন করতে পারলে, আমি আশা করতে পারি তাদের জ্ঞান লাভের উছিলায় আমার এ অনুতাপ অনেকটা কমে আসবে
তার ইন্ত্মিকালের পর দুই পুত্রই বিশাল জ্ঞানের অধিকারী হয়ে ছিলেন। ফলত: জ্যৈষ্ঠ পুত্র মুহাম্মদ পরে ইমাম মুহাম্মদ গায্‌যালী এবং কনিষ্ঠ পুত্র আহমদ ইমাম আহমদ গায্‌যালী নামে সুনাম কুড়ান। ইমাম সাহেবের পিতা ইন্ত্মেকালের পর তার বন্ধু উভয়কে স্থায়ী মসজিদ সংলগ্ন মক্তবে ভর্তি করান। শিশুদ্বয় শৈশব থেকে অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিল বলে কম সময়ে তারা মহাগ্রন্থ আল কোরআন হিফয করেন। তারপর আরবি ভাষায় মনোনিবেশ করেন।
ইমাম সাহেবের পিতা যে অর্থ তার বন্ধুকে দিয়েছিল তা ইতিমধ্যে সমাপ্তি দেখাদিল। বাবার সেই জনৈক বন্ধু বললেন, তোমাদের যে অর্থ ছিল সবশেষ হয়ে গেছে। আমার অবস্থা ক্রমশয় শোচনীয় হতে চলল, তিনি বললেন তোমরা দুই ভাই এখন এমন জায়গায় ভর্তি হও যেখানে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গরীব শিক্ষার্থীদের সকল কিছুর ভার গ্রহন করে। বাবার বন্ধুর পরামর্শ অনুযায়ী ইমাম সাহেব একটি অবৈতনিক মাদ্‌রাসা পেয়ে গেলেন। যা দিল ইমাম সাহেবের পাশ্ববর্তী এলাকার। সেথায় তিনি ফিকহ্‌ এর প্রাথমিক কিতাবাদি হযরত আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রাজকানীর নিকট অধ্যয়ন করেন।
অতঃপর ইমাম সাহেব উচ্চ শিক্ষা অর্জন মানসে স্বীয় ভূমি ত্যাগ করে জোরকানশহরে গিয়ে শাস্ত্রবিদ, যুগশ্রেষ্ঠআলেম ইমাম আবু নছর ইসমাঈলের তত্ত্বাবধানে লেখা পড়া শুরু করলেন। তৎকালীন যুগে একটি প্রচলিত রীতি ছিল যা ওস্ত্মাদ পড়াবেন তা লিখে রাখতে হবে। যা লিখে রাখা হয় তাকে তা লিকাতবলা হয়। ইমাম সাহেব যখন জোরকানশহরে পড়া শুনা শেষ করে বাড়িতে রওনা দিলেন। পথিমধ্যে ডাকাত দল তার তা লিকাতসহ সকল কিছু নিয়ে গেল। তিনি চিন্ত্মিত ও পেরেশান অবস্থায় ডাকাত দলের সর্দারকে বললেন; আমাকে কিছু দিতে হবে না। শুধু মাত্র আমার জ্ঞানের জুড়িটা তা লিকাতগুলি দিয়ে দিন। ডাকাত সর্দার বললেন; তুমি কেমন জ্ঞানী? তোমার জ্ঞান কাগজের পাতায়; তারপর তিনি দিয়ে দিলেন। ইমাম সাহেব সর্দারের কথা মনে রেখে ক্ষোভের সাথে সকল তা লিকাতকন্ঠস্থ করে ফেললেন।
তারপর ইমাম সাহেব জ্ঞান আহরনের তার মন আরো তীব্র থেকে তীব্র হতে লাগল। তারপর তিনি তৎকালীন জ্ঞানের শহর খোরাসানের নিশাপুর নিজামিয়া মাদ্‌রাসায় অধ্যয়ন শুরু করেন। যেখানে ইমামুল হারামাইনউপাধি প্রাপ্ত জনৈক কাল জয়ী আলিম ছিলেন। ইমাম সাহেব তার শারগিত্ব লাভ করেন।
শিক্ষকতা :-

ইমাম সাহেবের পান্ডিত্ব ও সকল শাস্ত্রে দখলের খবর ছিল সর্বত্র আলোচিত। এ সব খবর শুনার পর তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী নিজামুল হক ইমাম সাহেবকে বাগদানের প্রধান মাদ্‌রাসা, মাদ্‌রাসায়ে নিজামিয়ার অধ্যক্ষ পদে আসিন করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৪ বছর। ইমাম সাহেব প্রসঙ্গত কারণে দুইবার নিজামিয়া মাদ্‌রাসা থেকে পদত্যাগ করে। সর্বশেষ বার বাদ্‌শা তাকে পুন:রায় যোগ দানের জন্য অনুরোধ করে। তিনি বলেন আমি হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর মাজার জিয়ারত করে তিনটি শপথ করেছি (১) কদাচ কোন বাদ্‌শাহের দরবারে যাব না। (২) কোন বাদ্‌শা থেকে হাদিয়া/বৃত্তি গ্রহণ করবো না। (৩) সবার সাথে বাহাছ/তর্ক করবো না। ইনশাআল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত্ম তা রক্ষা করবো।
তাছাউফে অবদান :-
এ যাবত কাল পর্যন্ত্ম তাসাউফের উপর যত লিখনি প্রকাশ পেয়েছেন তার মধ্যে শতে আশি হলো ইমাম সাহেবের। তিনি হযরত জুনাইদ বোগদানী, বাইজিদ বোস্ত্মামী, শিবলী সহ যুগশ্রেষ্ঠ সুফিয়ায়ে কেরামের বই পড়েছেন। ইমাম সাহেব অধ্যাপনার থেকে ত্যাগ করে তিনি বাগদাদে অবস্থান করেন। তারপর অনেক দিন একাকি বসবাস করেন। তিনি যখন বাগদাদ ত্যাগ করেন তখন উত্তম পোষাকের পরির্বতে একটি মাত্র কম্বল নিয়ে বের হন। সুস্বাদু খাবারের পরিবর্তে শাক লতা পাতার প্রতিবেশি মনোযোগী হন।
পীর গ্রহণ :-
ইমাম সাহেব খুব কম বয়সে ইলমে জাহেরের সাথে ইলমে বাতেনের শিক্ষা নেওয়ার জন্য তৎকালীন সু বিখ্যাত বুজুর্গ, কামেল সূফী, শায়েখ আবু আলী ফারমাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। তখন তিনি ছাত্র ছিলেন।
লেখনি :-
ইমাম সাহেবের লেখনি ছিল খুরদার। ইমাম সাহেবের দ্রুত কলম চালনা সম্পর্কে ঐতিহাসিক তীব্বী বলেন, “ইমাম সাহেবের আয়ু ও বয়স এর গড় হিসাবান্ত্মে দেখলাম তিনি প্রত্যেহ ১৬পৃষ্ঠা লিখতেন। ইমাম সাহেব প্রায় সকল বিষয়ে গ্রন্থ প্রনয়ন করে দেখেছেন। তিনি দর্শন, তর্ক, মনস্ত্ম ও স্বভাব বিজ্ঞান, নীতি বিজ্ঞান, ইলমে কালাম, ধর্মতত্ত্ব, আধ্যাতিক বিজ্ঞান, তাসাউফের উপর বেশি লেখেছেন। তার উল্লেখ যোগ্য রচনা হলো এহইয়ায়ে উলুমিদ্দিন, কিমিয়ায়ে সায়াদাত, মেনহাজুল আবেদীন, তাফসীর, ফেকাহ, সহ প্রায় চারশত কালজয়ী কিতাব। তিনি ৫৫ বছর জীবিত ছিলেন। ২০ বছর বয়স থেকে কিতাব রচনা শুরু করেন। তন্মোধ্যে ১০/১২ বছর কেটেছে সফরে।
দর্শন ও কালাম :-
তৎকালীন আলিম গন দর্শন ও কালাম এর গতি ইসলামের বিপরীত দিকে বলে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু ইমাম সাহেব এসব কথার দাত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে তিনি লিখেছেন মীছতাছফাতদর্শন শাস্ত্রে একটি আলাদা বিষয় হিসাবে ইমাম সাহেব দেখিয়ে ছিল। তিনি যুগশেষ দার্শনিক ছিলেন।
সন্ত্মানাদি :-
ইমাম সাহেবের কোন ছেলে সন্ত্মান ছিল না। মাত্র কয়েকজন মেয়ে ছিল। প্রায় সকলে শৈশবে ইন্ত্মেকাল করেন। শুধু শিওলমুনা ব্যতিত
ইন্ত্মেকাল :-
মানুষ মরনশীল। এ কথাটি আরো একবার স্বরণ করিয়ে দেন ৫০৫হিজরি জমাদিউস সানি মোতাবেক ১৯শে ডিসেম্বর ১১১১ খিৃঃ সোমবার খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করে পূর্বের প্রস্তুতকৃত কাপনের কাপড়টি নিলেন। কাপড়টি চোখের সামনে রেখে বললেন প্রভুর আদেশ শিরোধার্য এর মাধ্যমে।
শেষ কথা :-
ইমাম গায্‌যালী মুসলিম জাতিকে কতটুকু সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন তা অবর্নণীয়। তার দর্শন আজ বিজাতীরাও অনুসরন করছে। মহান ব্যক্তি সম্পর্কে বহুজন বহু মতামত ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ তাকে মুজাদ্দেদও বলেছেন। আসুন ইসলামী দর্শন তথা ইমাম গায্‌যালীর দর্শনের বাস্ত্মবায়ক হিসাবে নিজেকে পরিচিত করি।

নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল

নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল

কোরআন শরীফের আলোকেঃ

আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন-
قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين-                                              
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫)
আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হলঃ-

দলিল নং ১

বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আববাস এর মধ্যে আছে-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني محمدا صلي الله عليه ؤسلم-           
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের  কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আববাস পৃষ্ঠা ৭২)।

দলিল নং ২

ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني باالنؤر محمدا صلي الله عليه ؤسلم الذي انار الله به الحق واظهربه الاسلام ومحق به الشرك-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের  কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককে নিশ্চিহ্ন করেছেন। ( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।


দলিল নং ৩

মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم انما سماه الله نور الانه يهداى بالنور في الظلام-

অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের  কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৪

ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ  ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-

والنور محمد عليه والسلام لانه يهتداي به كما سمي سراجا منيرا-
আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।


দলিল নং ৫

ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ  ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-

ان المراد بالنور محمد صلي الله عليه و سلم وبالكتاب القران-
অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।
আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন-

هذا ضعيف لان العطف يوجب المغايرة بين المعطوف والمعطوف عليه-
এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা‘তুফ (সংযোজিত) ও মা‘তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা  প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।


দলিল নং ৬
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ

قد جاءكم من الله نور هو نور النبى صلي الله عليه وسلم-

অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক।

 (তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)


দলিল নং ৭
আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-

  قد جاءكم من الله نور هو نورعظيم هو نور الانوارالنبى المختار صلى الله عليه وسلم الى ذهب قتادة والزجاج-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে । আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।
দলিল নং ৮

আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রা) বলেন-

قيل المراد باالاول هو الرسول صلى الله عليه وسلم وبالثانى القران-
অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯)
আর অগ্রসর হয়ে বলেন-

سمى الرسول نورا لان اول شيئ اظهره الحق بنور قدرته من ظلمة العدم كان نور محمد صلي الله عليه و سلم كما قال اول ما خلق الله نورى-
অর্থ: আল্লাহ তায়া‘লা রসূল আকরাম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া‘লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া‘লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টি করেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।

দলিল নং ৯
ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মু‏হাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রা) বলেন-

قد جاءكم من الله نور يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের  কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা)

এ ছাড়া আরো অনেক তাফসীর গ্রন্থর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূরঃ-
সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে  নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪। ২। তাফসীরে আবি সউদ ২য় খন্ড, পৃ- ২৫১, ৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃ- ৩৬৯, ৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খন্ড, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭, ৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৮৬, ৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খন্ড, পৃ- ১৬৩, ৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খন্ড পৃ- ১১৮, ৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খন্ড, পৃ- ৬৪, ১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃ- ৬৮, ১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৪৬২, ১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খন্ড, পৃ- ১৪০, ১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খন্ড, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫।
 সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ-
১। তাফসীরে দুররে মানসুর  ৩ খন্ড, পৃ- ২০১, ২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খন্ড, পৃ- ৩৪, ৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খন্ড, পৃ- ৪৮।
v        সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫ঃ-
১। তাফসীরে ইবনে আববাস ৪র্থ খন্ড, পৃ- ২৪, ২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খন্ড, পৃ- ১৬৬।
v        সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬ঃ-
১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খন্ড, পৃ- ১৫৪৬, ২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খন্ড, পৃ- ৪১১।



হাদীস শরীফের আলোকেঃ

দলিল নং ১০


عن جابر بن عبد الله رضى الله عنه قال : قلت يا رسول الله بابى انت وامى اخبرنى عن اول شئ خلق الله تعالى قبل الاشياء ؟ قال يا جابر ان الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نورنبيك من نوره فجعل ذالك النور يدور بالقدرة حيث شاء الله تعالى ولم يكن في ذالك الوقت لوح ولا قلم ولا جنة ولا ملك ولا سماء ولا ارض ولا شمس ولا قمر ولا جن ولا انس – فلما اراد الله تعالى ان يخلق الخلق قسم ذالك النور اربعة اجزاء فخلق من الجزء الاول القلم و من الثاني اللوح ومن الثالث العرش ثم قسم الجزء الربع اربعة اجزاء فخلق من الاول حملة العرش ومن الثانى الكرسى ومن الثالث باقى الملائكة ثم قسم الربع اربع اجزاء فخلق من الاول السماوات ومن الثانى الارضين ومن الثالث الجنة والنار—————————————– الخ-
অর্থঃ হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মা-বাবা আপনার কদম মোবারকে উৎসর্গিত, আপনি দয়া করে বলুন, সকল বস্ত্তর পূর্বে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়া’লা কোন বস্ত্তটি সৃষ্টি করেছিলেন? নবীজী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়’লা সমস্ত কিছুর পূর্বে তোমার নবীর (তোমার) নূর মোবারক তাঁরই নূর মোবারক হতে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর ওই নূর আল্লাহ তায়’লারই মর্জি মুতাবেক তাঁরই কুদরতি শক্তিতে পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল বেহেশ্ত-দোযখ, আর ছিলনা আসমান-যমীন, চন্দ্র-সূর্য, মানব ও দানব। এক পর্যায়ে মহান আল্লাহ যখন সৃষ্টিজগত পয়দা করার মনস্থ করেছিলেন, প্রথমেই ওই নূর মোবারককে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম অংশ দিয়ে কলম, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে লওহ, তৃতীয় অংশ দিয়ে আরশ, সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে পুণরায় চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমাংশ দিয়ে আরশবহনকারী ফেরেশতাদের দ্বিতীয় অংশ দ্বারা কুরসী, তৃতীয় অংশ দ্বারা অন্যান্য ফেরেশতাদের সৃষ্টি করে চুতুর্থাংশকে আবারও  চারভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগ দিয়ে সপ্ত আসমান, দ্বিতীয় ভাগ দিয়ে সপ্ত যমীন, তৃতীয় ভাগ দিয়ে বেহেশত-দোযখ এবং পরবর্তী ভাগ দিয়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সকল বস্ত্ত সৃষ্টি করে। (আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১)।
দলিল নং ১১

عن كعب الخبار رضى الله عنه قال : لما الله ان يخلق المخلوقات بسط الارض وقع السماء وقبض قبصة من نوره و قال لها كونى محمدا فصارت عمودا من نوره فعلا حتى انتهى الى حجب العظمة فسجد و قال فى سجوده الحمد لله فقال الله سبحانه و تعالى لهذا خلقتك و سميتك محمد صلى الله عليه و سلم منك ابدا الخلق و بك اختم الرسل-
অর্থঃ হযরত কাব আহবার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক রাববুল আলামিন যখন সৃষ্টি জগত সৃজন করার ইচ্ছা করলেন তখন মাটিকে সস্প্রসারিত করলেন, আকাশকে উঁচু করলেন এবং আপন নূও হতে এক মুষ্ঠি নূর গ্রহন করলেন। তারপর উক্ত নূরকে নির্দেশ দিলেন‘ তুমি মুহাম্ম্দ হয়ে যাও।’ অতএব সে নূও স্তম্ভের ন্যায় উপরের দিকে উঠতে থাকল এবং মহত্বের পর্দা পর্যন্ত পৈাছে সিজদায় পরে বলল,‘আলহামদুলিল্লাহ্’ তখন আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে ইরশাদ হল,এজন্যই তোমাকে সৃষ্টি করেছি আর তোমার নাম মুহাম্ম্দ রেখেছি। তোমার হতেই সৃষ্টি কাজ শুরু করব এবং তোমাতেই রিসালাতের ধারা সমাপ্ত করব ।  (সিরাতুল হালাভিয়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০)।
দলিল নং ১২


عن عائشة رضي الله عنها قالة : كنة في الشجر ثوبا لرسول الله صلي عليه و سلم فانطفا المصباح و سقطة الابرة من يدي فدخل علي رسول الله صلي الله عليه و سلم فاضاء من نور و جهه فجدة الابرة-
অর্থঃ ‘‘হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাত্রে বাতির আলোতে বসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাপড় মোবারক সেলাই করেছিলাম। এমন সময় প্রদীপটি (কোন কারণে) নিভে গেল এবং আমি সুচটি হারিয়ে ফেললাম। এরপরই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর চেহারা মোবারকের নূরের জ্যোতিতে আমার অন্ধকার ঘর আলোময় হয়ে গেল এবং আমি (ঐ আলোতেই) আমার হারানো সুচটি খুজে পেলাম’’। (ইমাম ইবনে হায়তামী (রাঃ) এর  আন-নে’মাতুল কোবরা আলার আলম গ্রন্থে ৪১ পৃষ্ঠা)।
দলিল নং ১৩

اخرج ابن ابي عمر العدني فى مسنده عن ابن عباس ان قريشا كانت نورا بين يدي الله تعالى قبل ان يخلق ادم بالفى عام يسبح ذالك النور و تسبح الملائكة بتسيحه فلما خلق الله ادم القي ذالك النور فى صلب قال رسول الله صل اله عليه و سلم فاهبطنى الله الى الارض فى صلب ادم (عليه السلام) و جعلنى فى صلب نوح عليه السلام و ق           ف بى فى صلب ابرهيم عليه السلام ثم لم يزل الله ينقلبى من الصلاب الكريمة و الارحام الطاهؤة حتى اخرجنى من بين ابوى لم يلتقيا على سفاح قط-
অর্থঃ  হযরত ইবনে আলী ওমর আল-আদানী স্বীয় মুসনাদে হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত  আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে তাঁর সন্তানদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার তারতম্যটুকুও দেখাতে লাগলেন। তিনি ( আদম আলাইহিস সালাম ) তাদের মধ্যে শেষপ্রান্তে একটা উজ্জ্বল নূর দেখাতে পেলেন। তখন তিনি বললেন,‘‘ হে রব! ইনি কে? ( যাকে সবার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত নূর হিসাবে দেখতে পাচ্ছি?) উত্তরে মহান রববুল আলামীন ইরশাদ করলেন,‘‘ ইনি হলেন তোমার পুত্র-সন্তান হযরত আহমদ মুজ্তবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি প্রথম, তিনি শেষ, তিনি হবেন আমার দরবারে প্রথম সুপারিশকারী (ক্বিয়ামতের দিনে)। ( আল-খাসাইসুল কুবরা ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯)

দলিল নং ১৪

ইমাম হাফেজ  আবুল ফযল ক্বাযী আয়ায (রা) বলেন-

و قد سماه الله تعالى فى و سراجا منيرا فقال تعالي قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين و قال تعالى انا ارسلناك شاهدا و مبشيرا و نذيرا و داعيا الى الله باذنه و سراجا منيرا و قال فى غير هذا الموضع انه كان لاظل لشخصه في شمس و لا قمر لانه كان نورا الذباب كان لا يقع على جسده و لا ثيابه-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়া‘লা কোরআন করীমে তাঁর নাম রেখেছেন নূর ও সিরাজুম্ মুনীর। যেমন তিনি ফরমায়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। আরো ফরমায়াছেন, আমি তো আপনাকে পাঠিয়েছি হাজের ও নাজেররূপে, আল্লাহর অনুমক্রিমে তাঁর দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপ (সিরাজুম মুনীর ) রূপে। নিশ্চয়ই তাঁর ছায়া ছিল না. না সূর্য়ালোকে না চন্দ্রালোকে কারণ তিনি ছিলেন নূর। তাঁর শরীল ও পোশাক মোবারকে মাছি বসত না। (শিফা শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৪২)।
দলিল নং ১৫


وعن ابلى هريرة رضى الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم سائل جبريل عليه السلام فقال يا جبريل كم عمرك من السنين فقال يا رسول الله مست اعلم غير ان فى الحجاب الرابع نجما يطلع في سبعين الف سنة مرة رايته اثنين و سبعين الف مرة فقال يا جبريل و عزة ربى جل جلا له انا ذالك الكوب-

অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জিবা্রঈল আলায়হিস সালামকে জিজ্ঞেসা করলেন , ওহে জিব্রাঈল! তোমার বয়স কত? উত্তরে জিব্রাঈল বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো সঠিক জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি ( সৃষ্টি জগত সৃষ্টির পূর্বে) আল্লাহ তায়‘লা নূরানী আযমতের পর্দা সমূহের চতুর্খ পর্দায় একটি নূরানী তারকা সত্তর হাজার বছর পরপর উদিত হত। আমি আমার জীবনে সেই নূরানী তারকা বাহাত্তর হাজার বার উদিত হতে দেখেছি। অতঃপর নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম ইরশাদ  করলেন মহান রাববুল আলামীনের ইজ্জতের কসম করে বলছি, সেই অত্যুজ্জ্বল নূরানী তারকা আমিই ছিলাম। (সীরাতে হালাভীয়া পৃষ্ঠা ৪৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান পৃষ্ঠা ৫৪৩)।
দলিল নং ১৬

لم يكن له صلى الله عليه و سلم ظل في شمس و لا قمر لانه كان نورا-

অর্থঃ ‘‘সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা। কেননা, তিনি ছিলেন আপদমস্তক নূর’’।                                                                                          (যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০)।

এ ছাড়া আরো অনেক হাদীস শরীফ গ্রন্থ এর মধ্যে আছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূর তা নিম্নরূপঃ-
১। মিশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১৩, ২৪ এর ১০নং হাশিয়া, ৫১১ এর ৬নং হাশিয়া,   তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৭, মাওয়াহিবে লাদুনিয়া পৃষ্ঠা ৪৫,শরহে সুন্নাহ ১০ম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৭, মিরকাত ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪৬,১৬৬,১৯৪। তিরমিজি শরীফ ২য় খন্ড, প- ৩৭, মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়ার ২য় খন্ড, পৃ- ২৮৬, ১৮। নশরুততীব পৃ- ৫, কৃতঃ আশরাফ আলী থানবী, ১৯। এমদাদুছ ছুলূক পৃষ্ঠা  কৃতঃ রশিদ আহমেদ গাংগুহী । ২০। শুকরে নিয়ামত কৃতঃ কাসেম নানুতুবী, গাওহারে সিরাজী পৃষ্ঠা ৬৯, কৃতঃ সিরাজুল ইসলাম।

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রহঃ) এর একটি কারামত

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রহঃ) এর একটি কারামত

হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রহঃ) রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়াসাল্লাম এর যিয়ারতের উদ্দেশ্য মদিনা মুনাওয়ারা সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন।অনেক ভক্ত-মুরীদও তাঁর সফর সঙ্গী হলেন।সফরের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের বোঝা তিনি উটের পিটের ওপর রাখলেন।বোঝার আকার একটু বড় দেখে কিছু লোক বলে উঠলেন এতবড় বোঝা প্রাণীর উপর রাখা বুযুর্গুদের শানের খেলাপ।যেহেতু এর দ্বারা তাদের কষ্ট হয়।এটা শুনে তিনি বললেন,বোঝা আমি উটের পিটের উপর রাখছি কিনা ভাল করে দেখুন।সবাই মনোযোগ দিয়ে দেখল যে,ঠিকই বোঝা উটের পিটের উপর নয় বরং উটের পিট হতে সামান্য উপরে ঝুলন্ত অবস্থায়।সবাই আশ্চর্য হয়ে ভুল বুঝতে পেরে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।তিনি ক্ষমা করে দিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন আমি এইসব কিছু গোপন রাখতে চাই।কিন্তু সমস্যা হল অনেক সময় কিছু মানুষ না বুঝে সমালোচনা শরু করে দেয়।ফলে তারা গুনাহের ভাগী হয়ে যায়।সে সময় আমাকে বাধ্য হয়ে তাদেরকে গুনাহ্ থেকে বাঁচানোর জন্য আসল রহস্য প্রকাশ করতে হয়।আবার প্রকাশ করতে গিয়ে আরেক সমস্যা দেখা দেয়।কারামতসমূহ দেখে মানুশ এমনভাবে হতবম্ব হয়ে যায় যে,তাদের হুঁশ আকল পর্যন্ত চলে যায়।

[Source:হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রহঃ) ও তাঁর দরগাহ শরীফ,পৃষ্ঠা-১৪৮